চেনা মুখ অচেনা মানুষ : মনিরুজ্জামান জুয়েল : বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিরন্তর ছুটে চলা এক শিশু সংগঠকের নাম | দিনাজপুর বার্তা ২৪ | Dinajpur Barta 24

দিনাজপুর বার্তা ২৪ | Dinajpur Barta 24

ব্রেকিং নিউজ
চেনা মুখ অচেনা মানুষ : মনিরুজ্জামান জুয়েল : বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিরন্তর ছুটে চলা এক শিশু সংগঠকের নাম
দিনাজপুর বার্তা এপ্রিল ২৬, ২০২১, ১:১৯ অপরাহ্ণ | পড়া হয়েছে ২২২ বার |

আজহারুল আজাদ জুয়েল ॥ দিনাজপুর জেলার এক সুপরিচিত শিশু সংগঠকের নাম মোঃ মনিরুজ্জানান জুয়েল। বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র মাধ্যমে যার নেতৃত্বের উৎপত্তি ও বিকাশ। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত এই শিশু সংগঠক এখন জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত ও আলোকিত মুখ।
ছাত্র জীবনেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকে পরিণত হয়েছিলেন মনিরুজ্জানান জুয়েল। সম্পৃক্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠন ছাত্রলীগের পতাকাতলে এবং পরিচিত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধের সাথে। সেই ১৯৮৩-৮৪ সালে, যখন সামরিক স্বৈরশাসকদের বিদ্ধেষমূলক নীতিবোধের কারণে বঙ্গবন্ধুর নাম মুখে আনতে অনেকে ভয় পেতেন, বঙ্গবন্ধুর কথা যেন কেউ না বলেন, তার নাম কোথাও যেন উচ্চারিত না হয়, পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসক গোষ্ঠী সব সময়ই সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। বড়রাই যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে ভয় পেতেন সেখানে শিশুরা তো তাঁর সম্পর্কে সম্পুর্ণ অজ্ঞ। এমনি এক বৈরী পরিস্থিতিতে দিনাজপুরে শিশুদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে নিজেকে আহ্বায়ক করে জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা’র শাখা গঠনের উদ্যোগ গ্রহন করেন মোঃ মনিরুজ্জানান জুয়েল।
‘বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকায়, ১৯৯১ সালে। শিশুদের মাঝে এই মহান নেতার আদর্শ প্রচার, তাঁর নীতির বাস্তবায়ন ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যার মূল লক্ষ্য ছিল। ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে দিনাজপু শহরের ঘাসিপাড়ায় নিজেকে আহ্বায়ক করে একটি সংগঠনটির একটি কমিটি গঠন করেন তিনি। কমিটিতে আরো ছিলেন মোঃ বালুয়াডাঙ্গার মোশাররফ হোসেন মুক্তা, ঘাসিপাড়ার বরকতউল্লাহ বাবুল ও শাহজাহান নভেল, রামনগরের মোঃ আনোয়ার হোসেন, গনেশতলার সুশিল কুমার দাস, রাহাত আফরোজ, মাজেদুর রহমান, সানজিদা তাবাসুম সম্পা, মুরশেদা বেগম ববি, আব্দুল করিম, রিপন, কাঞ্চন, জাবেদ, গুড্ডু প্রমুখ।


দিনাজপুর জেলার শুরুতে সংগঠনটি ঘাসিপাড়া শাখা কমিটি হিসেবে যাত্রা করেছিল। এর তিন বছর পর পুর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হলে। জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মোঃ মনিরুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ আনোয়ার হোসেন। মোশাররফ হোসেন মুক্তা ও মোঃ বরকতউল্লাহ বাবুল সহ-সভাপতি, শাহজাহান নভেল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন।
দিনাজপুরে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকাল হতে বর্ষিয়ান জননেতা মরুহম এম, আব্দুর রহিম ও তৎকালিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মরহুম আব্দুর রৌফ চৌধুরী প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। দুই রাজনীতিবিদ দিনাজপুর জেলায় সংগঠনটির কার্যক্রম ত্বরান্বিত ও বিকশিত করতে বিশেষভাবে অবদান রাখেন। প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ছিলেন দৈনিক আজকের দেশবার্তা সম্পাদক চিত্ত ঘোষ, আদর্শ কলেজের শিক্ষক পরিমল চক্রবর্তী তপন প্রমুখ। এ ছাড়া এই সংগঠনের আরো কয়েকজন উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাড. আজিজুল ইসলাম জগলু, নিউ হোটেলের মালিক প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ আলী খান, প্রাক্তন মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু, সংরক্ষিত আসনের সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য ভারতী নন্দী সরকার, বর্তমান নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি,প্রয়াত মিহির কুমার সরকার, কসবার ডাঃ আজিজুল ইসলাম, দেবদাস এন্ড সন্স এর সত্বাধিকারী প্রয়াত বাবু পরেশনাথ দাস, এসপিপি’র নির্বাহি পরিচালক আবুল কাশেম অরু, মঙ্গলপুরের আবু তাহের চৌধুরী, বালুবাড়ির মলয় চক্রবর্তী মন্টু, ক্ষেত্রিপাড়ার মরহুম শরিফুল আহসান লাল ও আলতাফুজ্জামান মিতা, গনেশতলার মাসুদ-উর-রহমান মন্টু, ঘাসিপাড়ার বজলুল হক ও শাহ ইয়াজদান মার্শাল, মোঃ আলাউদ্দিন, আতাউর রহামন আজাদ বাবলু, কামরুজ্জামান বাবু ও মেরাজ-এ-রসুল, দৈনিক জনমত সম্পাদক অ্যাড. বিধান কুমার দেব, মুন্সীপাড়ার মির্জা আশফাক হোসেন, যুবলীগ নেতা সুইহারীর মরহুম আব্দুল মান্নান, দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল ইসলাম, পুলহাটের আমজাদ আলী আহমেদ ও মরহুম গোলাম হামিদুর রহমান, রাজবাটির মরহুম আজগার আলী, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সাবেক সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কামরুল হুদা হেলাল, চাউলিয়াপট্টির মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, নিমতলার মোতাহার হোসেন, লিলি মোড়ের অ্যাড. নীলুফার রহিম, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. সান্তনু বসু ও ডা. ইলিয়াস আলী খান এডিন প্রমুখ।
উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গসহ সকলের সহযোগিতা নিয়ে মনিরুজ্জামান জুয়েল বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্ম ও শাহাদৎ বার্ষিকীতে শিশুদের জন্য সুন্দর হাতের লেখা, চিত্রাংকন, সাধারন নৃত্য, লোক নৃত্য, পল্লীগীতি, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, উপস্থিত বক্তৃতা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ দান সহ বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক নিয়মিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এ ছাড়া শিশু র‌্যালি, শিশু সমাবেশ, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শন, শিশুদের মাঝে বিনা মূল্যে গাছ বিতরণ, শীত বস্ত্র বিতরণ, ঈদ ও পূজোয় এতিম, গরিব, দুঃস্থ শিশুদের মাঝে পোশাক ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, ছড়া-কবিতা আবৃতি ও পাঠ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। এছাড়াও দিনাজপুরের গুণী ব্যক্তিবর্গ যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় এবং সমাজ উন্নয়নে ও বিনির্মাণে ভূমিকা রেখে চলছেন এমন ব্যক্তিবর্গকে সম্মাননা ও উত্তরীয় প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করছেন। এভাবে দিনাজপুর জেলায় তিনি শিশুদের মধ্যে দ্রুতই সাড়া জাগাতে এবং তাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও পরিচিতি তুলে ধরতে সমর্থ হন। এর ফলে শিশুরা জানতে ও বুঝতে পারে বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কথা, তাঁর জীবন ও দর্শনের কথা। যোগ্য নেতৃত্ব দেয়ার সুফল স্বরুপ তিনি ১৯৯৮ সালে শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জাতীয় পুরস্কারে ভুষিত হন এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত হতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
দিনাজপুরে গতিশীল নেতৃত্ব দেয়ার সুবাদে মোঃ মনিরুজ্জামান জুয়েল ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী নিযুক্ত হন এবং যোগ্যতা ও সুনামের সাথে ঐ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক পদে পর পর দুইবার নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। বর্তমানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব পালন করছেন এই শিশু সংগঠক। তিনি শিশুদের মাঝে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্ব্রুপ ২০০৭ সালে ফোকাস বাংলাদেশ-ঢাকা, ২০০৯ সালে বাংলা ভিষন ফাউন্ডেশন- ঢাকা, ২০১৯ সালে নিপ এনজিও- কলকাতা সহ আরো কয়েকটি সংগঠনেরও পুরস্কার ও পদক লাভ করেন।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিরন্তর সৈনিক মনিরুজ্জামান জুয়েলের জন্ম ১৯৬৮ সালে। তার পিতা হাফিজুল ইসলাম, মা কুলসুম বেগম। রাজশাহী বিশ^বিদ্যারয়ের স্নাতক ডিগ্রীধারী এই সংগঠক এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। পেশাগতভাবে তিনি ঔষধ ও সার্জিক্যাল ব্যবসায়্।ী একজন ভাল খেলোয়ারও। ১৯৮৮ ও ১৯৯২ সালে জেলা দলের হয়ে হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ গেমস-এ অংশ নেয়া খেলোয়ার মনিরিুজ্জামান জুয়েল শিশুদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচারে যেমন অবদান রেখেছেন তেমনি সফল শিশু সংগঠক হিসেবে নিজেকেও বিকশিত করেছেন। তিনি পবিত্র হজ¦ সম্পন্ন করেছেন এবং একাধিক দেশ সফর করেছেন। যেখানেই গেছেন সেখানেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, জীবন ও দর্শন প্রচারের চেষ্টা করেছেন। এখন তাঁর জীবনে প্রধান লক্ষ্য হলো আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে থাকা।

লেখক
আজহারুল আজাদ জুয়েল,
সাংবাদিক, কলামিষ্ট, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক
মোবাঃ ০১৭১৬-৩৩৪৬৯০/০১৯০২০২৯০৯৭
ইমেইল-a.azadjewel@gmail.com

এই পাতার আরো খবর -
১৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
দিনাজপুর, বাংলাদেশ
ওয়াক্তসময়
সুবহে সাদিকভোর ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সূর্যোদয়ভোর ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
যোহরদুপুর ১২:০২ অপরাহ্ণ
আছরবিকাল ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
এশা রাত ৮:১১ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদকীয়